নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ডাটা সেন্টারে সংরক্ষিত ১১ কোটিরও বেশি বাংলাদেশি নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য চুরির ঘটনা ঘটেছে। ডিএমপির মিডিয়া ও জনসংযোগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, এই চুরি হওয়া তথ্য ২০ হাজার কোটি টাকায় বিক্রি হয়েছে।
তালেবুর রহমান আরও জানান, এই ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজধানীর কাফরুল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকসহ ১৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় ডাটা সেন্টারের সাবেক পরিচালক তারেক এম বরকতুল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, চুরি হওয়া তথ্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এই ঘটনার সঙ্গে বেশ কয়েকটি সংস্থার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, বিশেষ করে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের সংশ্লিষ্টতা। তারা ডিজিকন গ্লোবাল সার্ভিসেস লিমিটেডকে তথ্যগুলো যেভাবে বিক্রি বা হস্তান্তর করেছে, তার বৈধতা যাচাই করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, কম্পিউটার কাউন্সিল ডিজিকনের সহায়তায় বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে এই তথ্য বিক্রি করেছে। পুলিশ বর্তমানে তদন্ত করে দেখছে কারা এই তথ্য বিক্রি থেকে লাভবান হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে ১৮২টি দেশি-বিদেশি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে অর্থের বিনিময়ে এই তথ্যগুলো বিক্রি করা হয়েছে।

0 মন্তব্যসমূহ