ডিমের বাজারে স্বস্তি ফিরলেও মুরগিতে আগুন
গরিব ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির প্রোটিন ও পুষ্টির মূল উৎস হচ্ছে ডিম ও মুরগি। খাসি বা গরুর মাংস এখন অনেকের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। কিন্তু বর্তমানে ডিম ও মুরগির বাজারেও অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
অনেক নাটকীয়তার পর ডিমের বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হলেও মুরগির দাম আবারও বাড়তে শুরু করেছে। রাজধানীর কেরানীগঞ্জ, জিনজিরা, আগানগর, নয়াবাজার, কারওয়ান বাজার, নিউমার্কেটসহ বেশিরভাগ কাঁচাবাজারে একই চিত্র দেখা যায়।
দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে ডিমের দাম লাগামহীনভাবে বেড়ে চলেছে। এক সময় খুচরা পর্যায়ে প্রতি ডজন ডিমের দাম ১৮০-১৯০ টাকায় পৌঁছে যায়। সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়, যেমন বাজার মনিটরিং, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক, ভারত থেকে ডিম আমদানি, এবং শেষ পর্যন্ত জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ২০ শতাংশ শুল্ক হ্রাস করে।
এসব উদ্যোগের ফলে ডিমের দাম কিছুটা কমেছে, তবে এখনো সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের মতে, উৎপাদক পর্যায় থেকে ডিম কম দামে পেলে খুচরা বাজারেও তা নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা সম্ভব হবে।
কারওয়ান বাজারের একজন ডিম বিক্রেতা বলেন, “সরকার নির্ধারিত দামে ডিম বিক্রি করার চেষ্টা করা হচ্ছে, কিন্তু উৎপাদক পর্যায়ে দাম বেশি হওয়ায় পাইকারি এবং খুচরা বাজারে দাম বাড়ছে।” বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতি ডজন ডিম ১৫৫-১৬০ টাকায় এবং পাইকারিতে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরবরাহ ঠিক থাকলে দাম আরও কমার আশা করা হচ্ছে।
ডিমের দাম কমলেও ক্রেতারা সন্তুষ্ট নন, কারণ এখনো প্রতি ডজন ডিম কিনতে হচ্ছে দেড়শ টাকার বেশি দিয়ে। তারা বলছেন, প্রোটিনের চাহিদা পূরণের এ পণ্যও ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে।
ক্রেতাদের মতে, মাছ ও মুরগির দামও অনেক বেশি। আমিষের চাহিদা পূরণ এখন বিলাসিতার মতো হয়ে গেছে, আর ডিমের উচ্চমূল্য তাদের প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে অসুবিধায় ফেলছে।
আরেক ক্রেতা রহিম বলেন, “বাজারে ডিম ও মুরগির দাম অনেক বেড়ে গেছে। অভিযানেও ফল আসছে না। ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভাঙতে কঠোর আইন প্রয়োগ জরুরি।”
ডিমের বাজার যখন এ অবস্থায়, তখন মুরগির দামও ঊর্ধ্বমুখী। ব্রয়লার মুরগির প্রতি কেজি ২০০-২১০ টাকায়, সোনালি মুরগি ২৮০-৩০০ টাকায়, সাদা লেয়ার ২৫০ টাকায় এবং লাল লেয়ার ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জাতভেদে হাঁস বিক্রি হচ্ছে ৫৫০-৬০০ টাকায়।
বিক্রেতারা বলছেন, মুরগির সরবরাহ কমে যাওয়ায় এবং ফিড ও বাচ্চার দাম বাড়ায় উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটছে, যার প্রভাব বাজারে পড়ছে। কেরানীগঞ্জের আগানগর বাজারের এক ব্যবসায়ী রিপন জানান, "মুরগির সরবরাহ কমছে এবং পাইকারিতে দাম বাড়ায় খুচরা বাজারেও দাম বাড়ছে।"
তবে গরু ও খাসির মাংসের দাম এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৫০-৮০০ টাকায়, খাসির মাংস ১,০৫০-১,১০০ টাকায় এবং ছাগলের মাংস ১,০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

0 মন্তব্যসমূহ