Hot Posts

6/recent/ticker-posts

শেখ হাসিনাকে ফেরত চাইলেন জামায়াত আমির


নীলফামারী পৌরসভা মাঠে বক্তব্য রাখছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ভারতের কাছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "আমরা আমাদের প্রতিবেশীকে অনুরোধ করব, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আমাদের আদালতে ১৫০টিরও বেশি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে খুন ও গুমের অভিযোগও আছে। আমাদের বিচারালয় যখন তাকে চাইবে, তখন দয়া করে তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেবেন। অপরাধ করলে শাস্তি না পেলে অন্য অপরাধীরা আরও উৎসাহিত হবে।"

আজ শুক্রবার (৮ নভেম্বর), নীলফামারী পৌরসভা মাঠে জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, "গত সাড়ে ১৫ বছরে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সরকার দেশের মানুষকে শান্তি দিতে ব্যর্থ হয়েছে। সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষ এ সরকারের হাতে নিপীড়িত ও নির্যাতিত হয়েছে। বিশেষ করে আমাদের দল জামায়াত অনেক বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছে।"

তিনি ২৪-এর শহীদদের স্মরণ করে বলেন, "আমাদের আচরণে প্রমাণ করতে হবে যে, আমরা রাজনীতিতে, দেশ পরিচালনায় শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এর প্রমাণ দিতে হলে এমন একজন নেতা প্রয়োজন, যিনি যা বলবেন, তা কাজেও প্রমাণ করবেন।"

শেখ হাসিনার শাসনামল সম্পর্কে তিনি বলেন, "সাড়ে ১৫ বছর ধরে একজন শাসক দেশ শাসন করেছেন, যিনি যখন কথা বলতেন, মানুষ বলত, 'ও হাসিনা, আমরা আর হাসি না।' তার শাসনকালে মানুষকে উত্তেজিত করা এবং হাসানোর চেষ্টা ছিল তার সাধারণ অভ্যাস। তার মন্ত্রীরা একইভাবে মিথ্যাচারে প্রতিযোগিতা করতেন। তারা জাতির সঙ্গে ধোঁকাবাজি করেছে, জুলুম করেছে, মানুষ খুন করেছে, গুম করেছে, এবং আয়ানাঘর তৈরি করেছে।"


তিনি আরও বলেন, "আওয়ামী লীগ হয়তো ফ্যাসিস্ট, নির্দয় এবং খুনি হতে পারে, কিন্তু দেশের ১৮ কোটি মানুষ মনে করে আমরা দায়িত্বশীল এবং দেশপ্রেমিক।" তিনি উল্লেখ করেন, "সাবেক সড়কমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতা ছাড়লে দুই দিনের মধ্যে পাঁচ লাখ মানুষ খুন হবে। কিন্তু ৫ ও ৬ আগস্টে একজন মানুষও খুন হয়নি।"

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "শেখ হাসিনা বলেছিলেন, তিনি কোথাও পালাবেন না, অথচ তিনিও পালিয়ে গেলেন এবং তার প্রিয় দেশে আশ্রয় নিলেন। আমরা প্রতিবেশীকে সম্মান করি এবং তাদের কাছ থেকে সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণ প্রত্যাশা করি।"

জামায়াতে ইসলামী নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে ডা. শফিক বলেন, "১৯৭২ সালে শেখ মুজিবুর রহমান দেশে ফিরে এসে যারা অপরাধ করেছিল তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। কিন্তু যাদের যুদ্ধাপরাধী হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে তখন কোনও মামলা হয়নি। শেখ মুজিবের সরকার যুদ্ধাপরাধীদের শনাক্ত করতে গিয়ে কেবল ১৯৫ জনকে তালিকাভুক্ত করেছিল, যাদের মধ্যে কেউই বর্তমান বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন না।"

তিনি আরও বলেন, "যদি জামায়াতে ইসলামী সত্যিই এসব অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকত, তবে বাংলাদেশের কোনও না কোনও থানায় তাদের বিরুদ্ধে একটি হলেও মামলা হতো। কিন্তু একটি থানায়ও কোনও মামলা ছিল না। তাহলে কেন এই ১১ জন নেতার বিরুদ্ধে মামলা করা হলো?" 

সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ড. খায়রুল আনাম, সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আল ফারুক আব্দুল লতিফ, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা সভাপতি অধ্যাপক মনিরুজ্জামান জুয়েল, রংপুর মহানগর জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফী প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ