বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের ক্রয়াদেশ প্রতিবেশী ভারত, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের দিকে চলে যাচ্ছে, যা রাজনৈতিক অস্থিরতা, সরকার পতন এবং শ্রমিক অসন্তোষের কারণে ঘটেছে। এ ঘটনাকে দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাতের জন্য গভীর সংকট হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিবিসির ১২ অক্টোবরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন বিদেশি ব্র্যান্ডের ক্রেতা এবং বাংলাদেশের পোশাক কারখানার মধ্যস্থতাকারী একটি প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে যে, সময়মতো শিপমেন্ট করতে না পারায় তাদের একটি ক্রেতার ৯০ শতাংশ ক্রয়াদেশ ভারতে চলে গেছে।
একটি মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান 'নো এক্সিট'-এর পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ জাকির জানান, পরিস্থিতি ভালো হলে ক্রেতারা আবার ফিরতে পারেন। তার বেশ কিছু অর্ডার ভারতেই চলে গেছে, কারণ শিপমেন্ট এবং ডেলিভারি সমস্যার কারণে ক্রেতারা ভারতের দিকে ঝুঁকেছে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, পরিস্থিতির উন্নতি হলে ক্রেতারা ফিরে আসবে।
বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলোর মধ্যে আশুলিয়া, সাভার এবং গাজীপুর এলাকায় সমস্যা সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। শ্রমিক অসন্তোষের কারণে যৌথবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে একজন শ্রমিক নিহত হয়েছেন।
বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি রুবানা হক এই পরিস্থিতিকে পোশাক খাতের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, অনেক ফ্যাক্টরি ১২ থেকে ১৫ দিন ধরে বন্ধ ছিল, যা বিশাল ক্ষতির কারণ হয়েছে। সবচেয়ে বড় ক্ষতি হলো, ক্রেতারা অন্য দেশে চলে যাচ্ছেন, এবং ডিসেম্বরের মধ্যে ২৫-৩০ শতাংশ অর্ডার অন্যান্য দেশে চলে যাবে। ক্যাম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, ভারত, পাকিস্তান এমনকি মিয়ানমারেও এসব অর্ডার চলে যাচ্ছে।
রুবানা হক আরও বলেন, ক্রেতারা ফ্যাক্টরি বন্ধের বাস্তবতাটা জানেন, তাই আমাদের উচিত স্বচ্ছভাবে সমস্যাগুলো তুলে ধরা এবং যৌথভাবে একটি সমাধানের পথে এগোনো।
বিজিএমইএ’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল্লাহ হিল রাকিব জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করছে এবং সরকারের কঠোর ভূমিকার প্রয়োজন রয়েছে। যৌথবাহিনী আশুলিয়া ও সাভার এলাকায় তৎপর হয়ে কাজ করছে।
শ্রম উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেন, সরকার শ্রমিকদের দাবি মেনে নিয়ে কাজ শুরু করেছে এবং বকেয়া বেতন পরিশোধের জন্য ঋণ প্রদানের উদ্যোগ নিচ্ছে।


0 মন্তব্যসমূহ