ধ্রুপদী ভাষা হিসাবে কোনো ভাষা স্বীকৃতি পেলে সেই ভাষার প্রচার ও প্রসারের ক্ষেত্রে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।
বাংলাকে ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদা দিয়েছে ভারত। প্রতীকী ছবি: সংগৃহীত
বাংলা ভাষাকে ধ্রুপদী ভাষার স্বীকৃতি দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। বাংলা সহ আরও চারটি ভাষা—মারাঠি, পালি, প্রাকৃত ও অসমীয়া—এই মর্যাদা পেয়েছে।
বৃহস্পতিবার নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়। এর আগে সংস্কৃত, তামিল, তেলেগু, মালয়ালম, কন্নড় ও ওড়িয়া ভাষাকে ধ্রুপদী ভাষার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল।
কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এই পদক্ষেপকে ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, বৈজ্ঞানিক ও ঐতিহাসিক তথ্যের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও একই মানদণ্ডে অন্যান্য ভাষাকে এই মর্যাদা দেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক মাধ্যমে এক্সে (আগের টুইটার) পোস্ট করে বলেছেন, সরকার ভারতের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে কাজ করছে এবং আঞ্চলিক ভাষাগুলোকে জনপ্রিয় করতে দায়বদ্ধ। তিনি ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদা পাওয়ায় অসমিয়া, বাংলা, মারাঠি, পালি ও প্রাকৃত ভাষার প্রশংসা করেছেন।
ধ্রুপদী ভাষা ঘোষণার মানদণ্ড:
জাতীয় স্তরের সাহিত্য একাডেমির ভাষা বিশেষজ্ঞদের একটি কমিটি ধ্রুপদী ভাষার মানদণ্ড নির্ধারণ করে। মূলত, যে ভাষার দেড় থেকে দুই হাজার বছরের ইতিহাস, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ব্যবহার, পদ্য ও গদ্যের চল, শিলালিপির প্রমাণ এবং ভাষার বিবর্তন থাকে, তাকে ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদা দেওয়া হয়।
ধ্রুপদী ভাষার সুবিধা:
ধ্রুপদী ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পেলে ভাষার প্রচার ও প্রসারে কেন্দ্রীয় সরকার বিশেষ উদ্যোগ নেয়। এই ভাষার জন্য জাতীয় পুরস্কার ঘোষণা করা হয়, কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে চেয়ার তৈরি হয়, এবং ভাষার উন্নয়নে কেন্দ্রীয়ভাবে গবেষণা সংস্থা গঠন করা হয়। এর আগে সংস্কৃত, তামিল ও অন্যান্য ভাষার জন্য একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
কী লাভ হবে:
সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী বলেছেন, এই স্বীকৃতি বাংলা ভাষার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শিক্ষাবিদ ও লেখক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ও এই স্বীকৃতিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে বলেছেন, বাংলার অনেক আগেই এই মর্যাদা পাওয়া উচিত ছিল।



0 মন্তব্যসমূহ