পার্বত্য চট্টগ্রামে চলমান অস্থিরতা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে এ বছর রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব 'কঠিন চীবরদান' উদযাপন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্মিলিত ভিক্ষু সংঘ।
রোববার রাঙামাটির মৈত্রী বৌদ্ধ বিহারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভিক্ষু সংঘের সভাপতি ভদন্ত শ্রদ্ধালঙ্কার মহাথের এ ঘোষণা দেন। তিন পার্বত্য জেলার ১৫টি ভিক্ষু সংঘের প্রতিনিধিরাও এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, সম্প্রতি খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে পাহাড়ি ও বাঙালি সেটেলারদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা 'রহস্যজনক' ছিল।
ভদন্ত শ্রদ্ধালঙ্কার বলেন, "পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়িদের ওপর বিনা বাধায় সাম্প্রদায়িক হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, বিহারে আক্রমণ এবং বৌদ্ধ মূর্তি ভাঙার ঘটনা নতুন নয়। এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটলেও প্রশাসনের ভূমিকা রহস্যজনক এবং পক্ষপাতদুষ্ট বলে মনে হচ্ছে।"
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পার্বত্য অঞ্চলে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক সহিংসতার কোনো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার এখন পর্যন্ত হয়নি।
"পাহাড়ে চলমান সহিংসতা এবং এটি থামানোর জন্য প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগের অভাব দেখে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন ও শঙ্কিত। আইনশৃঙ্খলার চরম অব্যবস্থাপনার মধ্যে প্রশাসনের ওপর আস্থা হারিয়েছি," বলেন তিনি।
তিনি জানান, "চরম অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতার এই পরিস্থিতিতে বৌদ্ধ সমাজ ও ভিক্ষু সংঘের মধ্যে আলোচনার পর সর্বসম্মতভাবে এ বছর কঠিন চীবরদান উৎসব না করার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি।"
প্রসঙ্গত, আশ্বিনী পূর্ণিমার পর থেকে এক মাসব্যাপী কঠিন চীবরদান অনুষ্ঠান উদযাপন করা হয়, যেখানে তুলা থেকে সুতা এবং সুতা থেকে চীবর (ভিক্ষুদের পরিধেয় কাপড়) তৈরি করা হয় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে। এই অনুষ্ঠান পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রায় দুইশ বিহারে উদযাপিত হয় এবং এটি একটি প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব হিসেবে পালিত হয়ে থাকে।
এ বছর নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে পার্বত্য চট্টগ্রামে মাসব্যাপী এই ধর্মীয় উৎসব শুরু হওয়ার কথা ছিল।
এদিকে, রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোশারফ হোসেন খান জানান, সেখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং সোমবার বৌদ্ধ ভিক্ষুদের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে তাদের উদ্বেগ শোনা হবে।

0 মন্তব্যসমূহ