Hot Posts

6/recent/ticker-posts

যেকারণে জাফর ইকবালের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হলো

 


ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) একজন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক, এবং তার স্ত্রী ড. ইয়াসমিন হকও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক। ড. ইকবালের একটি মতামত প্রকাশের পর শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা তাকে আজীবন ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।


আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার মামলায় ড. জাফর ইকবালসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। আদালতের প্রধান কৌঁসুলি জানান, জাফর ইকবালের বিরুদ্ধে গণহত্যায় উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। 


বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) ট্রাইব্যুনাল এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। পরোয়ানা জারির তালিকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়সহ আওয়ামী লীগ সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীর নামও উল্লেখ করা হয়েছে।


এর আগে, শেখ হাসিনার "রাজাকার" উক্তির প্রতিবাদে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অংশ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল করেন। ১৪ জুলাই রাতের সেই মিছিলে তারা "তুমি কে, আমি কে—রাজাকার" এবং "স্বৈরাচার" স্লোগান দেয়। এই স্লোগানের প্রেক্ষিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ড. জাফর ইকবাল।


১৬ জুলাই, তিনি তার ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটে "সাদাসিধে কথা" শিরোনামে একটি সংক্ষিপ্ত মতামত প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি লেখেন, "ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমার প্রিয় প্রতিষ্ঠান। তবে আর কোনো দিন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যাব না, কারণ শিক্ষার্থীরা আমাকে 'রাজাকার' মনে করে। জীবনের বাকি সময়ে আমি কোনো রাজাকারের মুখ দেখতে চাই না।"


এই লেখা দ্রুত অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। তাদের আন্দোলন পরিণত হয় ২৪' এর গণঅভ্যুত্থানে, যা ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগ এবং ভারতে পালিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে শেষ হয়।


শাবিপ্রবির সাধারণ শিক্ষার্থীরা ড. জাফর ইকবালকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আজীবন নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। একই সময়ে, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা তার বই পুড়িয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং তাকে বয়কটের ঘোষণা দেয়।


মামলার প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম জানান, জাফর ইকবালের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো তদন্তাধীন এবং সুবিচার পাওয়া যাবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ