বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ) অভিযোগ করেছে যে, ডিম এবং মুরগির বাচ্চার দাম বাড়িয়ে গত ২০ দিনে ভোক্তাদের কাছ থেকে ২৮০ কোটি টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হয়েছে। শনিবার (৫ অক্টোবর) সংগঠনটির সভাপতি মো. সুমন হাওলাদার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ অভিযোগ করেন।
|
|
অতিরিক্ত
নেওয়া হচ্ছে |
প্রতিদিন ডিম উৎপাদন |
প্রতিদিন অতিরিক্ত
মুনাফা |
গত ২০ দিনে মুনাফা |
|
ডিম |
প্রতিটি ডিমে ২ টাকা |
৪ কোটি |
৮ কোটি
টাকা |
১৬০ কোটি |
|
মুরগির বাচ্চা |
প্রতিটি বাচ্চায়
২০ টাকা |
৩০ লাখ |
৬ কোটি টাকা |
১২০ কোটি |
|
গত ২০ দিনে মোট মুনাফা |
২৮০ কোটি |
|||
বিপিএ জানায়, বাজারে প্রতিটি ডিমে ২ টাকা অতিরিক্ত নেওয়া হচ্ছে, ফলে প্রতিদিন ৪ কোটি ডিম থেকে ৮ কোটি টাকা বেশি মুনাফা অর্জিত হচ্ছে। গত ২০ দিনে এই অতিরিক্ত মুনাফার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৬০ কোটি টাকা। একইভাবে, মুরগির বাচ্চার দাম ৩০-৩৫ টাকা থেকে বেড়ে ৪০-৫৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আর ডিমের মুরগির বাচ্চার দাম ৭০-৮০ টাকায় পৌঁছেছে। প্রতিদিন ৩০ লাখ মুরগির বাচ্চা উৎপাদন হয়, এবং প্রতিটি বাচ্চায় ২০ টাকা অতিরিক্ত নিয়ে প্রতিদিন ৬ কোটি টাকা অতিরিক্ত আয় করা হচ্ছে। গত ২০ দিনে এই অতিরিক্ত মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১২০ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে, ২০ দিনে ভোক্তাদের কাছ থেকে ২৮০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রান্তিক খামারিরা ডিম ও মুরগি উৎপাদন করলেও, দাম নির্ধারণ করে করপোরেট গ্রুপ ও তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী সমিতি। তারা
ইচ্ছেমতো দাম বাড়িয়ে দিলে খামারিরা লাভবান হয়, তবে দাম
কমিয়ে দিলে উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং
অনেক সময় উৎপাদন বন্ধ করে দিতে হয়। বাজারের এই অস্থিরতার জন্য করপোরেট গ্রুপ ও
তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটকে দায়ী করা হয়, যারা
বারবার সিন্ডিকেট করে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করলেও শাস্তির মুখোমুখি হয় না।
বিপিএ আরও জানায়, ডিম-মুরগির
দাম নির্ধারণ করার সময় পুরোনো সিন্ডিকেটকে গুরুত্ব দেওয়া হয়, ফলে তাদের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। ১৫ সেপ্টেম্বর সরকার
উৎপাদক পর্যায়ে ডিমের দাম ১০.৫৮ টাকা এবং ভোক্তা পর্যায়ে ১২ টাকা নির্ধারণ করলেও,
বাস্তবে ডিম বিক্রি হয়েছে ১৪-১৫ টাকায়, যা
সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি।

0 মন্তব্যসমূহ