মা হওয়ার স্বপ্ন পূরণে কতই না অপেক্ষা করতে হয় একজন নারীকে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই স্বপ্ন অনেকের কাছেই অধরা থেকে যায়। কিন্তু এবার সবাইকে অবাক করে দিয়ে উত্তর মেসিডোনিয়ায় ৬১ বছর বয়সে মা হয়েছেন এক নারী।
গত মঙ্গলবার তিনি পেটার নামে এক শিশুর জন্ম দেন, যা তাকে দেশটির সবচেয়ে বেশি বয়সী মা হিসেবে পরিচিতি এনে দিয়েছে। স্কোপজে ইউনিভার্সিটি ক্লিনিক অফ গাইনোকোলজি অ্যান্ড অবস্টেট্রিক্সের চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশনের মাধ্যমে শিশুটির জন্ম হয়।
চিকিৎসায় এক নতুন দিগন্ত
ক্লিনিকের পরিচালক ইরেনা আলেক্সিওস্কা পাপেস্তিয়েভ এই ঘটনাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের একটি মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “৬১ বছর বয়সে এই শিশুর জন্ম প্রমাণ করে, আধুনিক চিকিৎসা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অনেক অসম্ভবকেই সম্ভব করা যায়।”
তবে এই যাত্রা সহজ ছিল না। গর্ভাবস্থায় ওই নারী উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ বেশ কিছু জটিলতায় ভুগছিলেন। ডাক্তারদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকার পরও, তিনি এবং তার নবজাতক সুস্থ অবস্থায় হাসপাতাল ত্যাগ করেন।
দীর্ঘ বছরের অপেক্ষার অবসান
এই মা প্রায় এক দশক ধরে ১০টি পৃথক ইন ভিট্রো চিকিৎসার মধ্য দিয়ে গেছেন। অবশেষে তিনি মাতৃত্বের স্বাদ পেলেন। তার ৬৫ বছর বয়সী স্বামীও সন্তানের আগমনে দারুণ আনন্দিত।
জনসংখ্যা সংকট মোকাবিলায় সম্ভাবনার দিশা
এই সাফল্যে চিকিৎসকরাও অত্যন্ত আশাবাদী। বলকান অঞ্চলে, বিশেষত উত্তর মেসিডোনিয়ায়, জনসংখ্যা সংকট প্রকট হয়ে উঠছে। ২০২৩ সালে দেশটিতে জন্মের হার ছিল মাত্র ১.৪৮ শতাংশ। দেশত্যাগ ও অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে জনসংখ্যা ক্রমশ কমছে।
চিকিৎসকরা মনে করছেন, এমন চিকিৎসা পদ্ধতি বৃদ্ধ বয়সেও মাতৃত্বের সুযোগ সৃষ্টি করে জনসংখ্যা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে।
৬১ বছর বয়সে মা হওয়ার এই ঘটনা চিকিৎসাবিজ্ঞানে একটি নতুন যুগের সূচনা করেছে। এটি শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং জনসংখ্যা সংকট ও চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতির প্রতীক।

0 মন্তব্যসমূহ