Hot Posts

6/recent/ticker-posts

ওবায়দুল কাদেরের লুকিয়ে থাকা সম্পর্কে যা জানা গেল

 


গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের ফলে সরকারের পতন ঘটলে আওয়ামী লীগের বহু নেতাকর্মী আত্মগোপনে চলে যান। অনেকেই সরকারের পতন আশঙ্কা করে আগেই গোপনে দেশ ত্যাগ করেন। আত্মগোপনে থাকা নেতাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন এরই মধ্যে আটক হয়েছেন।

তবে, সরকার পতনের আগের দিন, ৪ আগস্ট থেকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে কোথাও দেখা যায়নি। কেউ বলছেন, তিনি দেশ ছেড়েছেন, আবার কেউ বলছেন, তিনি এখনও দেশে আছেন। গুঞ্জন রয়েছে, তিনি দেশ ছেড়ে ভারতে চলে গেছেন। কিছু সূত্র জানিয়েছে, তিনি যশোর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছেন এবং সেখান থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ভারতে পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগের কিছু নেতা সংবাদমাধ্যমকে জানান, তারা শুনেছেন ওবায়দুল কাদের ভারতে পৌঁছেছেন, তবে তাদের সঙ্গে তার দেখা বা যোগাযোগ হয়নি। কিছু আওয়ামী লীগ নেতার দাবি, ওবায়দুল কাদেরের পাসপোর্ট বা ভিসা নেই, তাই তিনি বৈধভাবে ভারতে যেতে পারেননি এবং যশোর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে গিয়েছেন।

জানা যায়, ৪ আগস্টের আগে ওবায়দুল কাদের রাজধানীর গুলশান থেকে যশোরের সীমান্তবর্তী এলাকায় যান। সেখানে তিনি এক প্রভাবশালী সরকারি কর্মকর্তার নিকটাত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থান করেন এবং ভারতে যাওয়ার অপেক্ষা করছিলেন। এর আগে তিনি ঢাকার গুলশানের একটি বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন। সেখানেই ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসহাক আলী খান পান্নাও আত্মগোপনে ছিলেন। তবে ২৪ আগস্ট পালানোর চেষ্টা করার সময় ভারতীয় সীমান্তে পান্না নিহত হন। ওবায়দুল কাদের বর্তমানে কোথায় আছেন, সে বিষয়ে কেউ নিশ্চিতভাবে কিছু জানাতে পারছে না।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খুবই সক্রিয় থাকা ওবায়দুল কাদেরের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে শেষ পোস্ট করা হয়েছিল গত ৫ জুলাই। এরপর থেকে তার কোনো পোস্ট দেখা যায়নি। আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগ নেতাদের ধারণা, জটিলতা এড়াতে তিনি দিল্লিতে থাকতে পারেন। কারণ কলকাতায় থাকা বেশির ভাগ নেতাই তার খোঁজ করার চেষ্টা করছেন এবং তারা তাকে আওয়ামী লীগের পতনের জন্য দায়ী করছেন। এ কারণেই কলকাতায় তার সঙ্গে নেতাদের দেখা হলে বিব্রতকর পরিস্থিতির আশঙ্কা রয়েছে।

কিছু সূত্র জানায়, তিনি একাধিকবার সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন এবং এখনো সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

এদিকে, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দিলে পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। রাজশাহীর বিজিবি সদর দপ্তর পরিদর্শনকালে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানান, ওবায়দুল কাদেরের সম্পর্কে তার কাছে কোনো তথ্য নেই। তবে সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন, যদি তারা ওবায়দুল কাদেরের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দিতে পারেন, তাহলে তিনি পুরস্কার দেবেন। তিনি উল্লেখ করেন, ৫, ৬ ও ৭ আগস্ট আওয়ামী লীগের বেশিরভাগ নেতাকর্মী দেশ ছেড়ে চলে গেছেন।

গত ১৭ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরসহ ৪৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। তাদের ১৮ নভেম্বরের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়।




একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ